
দলিল লেখকদের প্রাণের দাবি ‘৭ দফা’ বাস্তবায়নের দাবি।
মো: মাসুদ রানা (নিজেস্ব প্রতিবেদক): দেশের দলিল লেখকদের পেশাগত স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত না করার দাবিসহ প্রাণের দাবি ‘৭ দফা’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাননীয় আইনমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এম এ রশিদ ও মহাসচিব কে এস হোসেন টমাসের নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলার নেতৃবৃন্দ নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শকের মাধ্যমে আইনমন্ত্রী বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে আধুনিকায়নের নামে দেশের দীর্ঘদিনের পেশাজীবী দলিল লেখকদের পেশাগত অধিকার ও কর্মসংস্থান যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি দলিল লেখকদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা ও যৌক্তিক দাবিসমূহের দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
দলিল লেখক নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের দলিল লেখকদের একটি বড় অংশ নিবন্ধন-সংক্রান্ত ম্যানুয়াল, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রজ্ঞাপন, পরিপত্র ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সেবা দিয়ে আসছেন। তাঁরা কোনো নামসর্বস্ব নেতৃত্ব কিংবা ব্যক্তিস্বার্থের রাজনীতিতে আগ্রহী নন; বরং নীরবে ও নিরবে সারাদেশের দলিল লেখকদের পেশাগত স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছেন।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সম্প্রতি বাজেট ঘোষণার পর দলিল লেখকদের দাবির গুরুত্ব ও সময়ের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে চট্টগ্রামের অভিজ্ঞ নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্টরা সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এর ফলে হেবা ও দান ঘোষণার দলিলের ‘উৎসে কর’ সংক্রান্ত বিষয়ে দলিল লেখক ও সাধারণ জনগণ সুফল পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
তাঁরা বলেন, যারা দলিল লেখকদের অধিকার ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন, তাঁদের উৎসাহিত করা আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, বীরোচিত ও প্রজ্ঞাবান দলিল লেখকদের নৈতিক দায়িত্ব। বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে দেশের বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধভাবে দলিল লেখকদের প্রাণের দাবি ‘৭ দফা’ বাস্তবায়নে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দলিল লেখকদের যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে আধুনিকায়নের নামে কোনোভাবেই দেশের হাজার হাজার দলিল লেখকের পেশাগত অধিকার ও কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হবে না—এমন সুস্পষ্ট নীতিমালা ও প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানান তাঁরা।