
মো: মাসুদ রানা (নিজস্ব প্রতিবেদক):খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বলি টিলা, হাসপাতাল পাড়া, বড়ঝালা, কুমাইয়া পাড়া, মোহাম্মদপুর, মিস্তিরি পাড়া, রসুলপুর ও আটবাড়ী—এই আটটি জনবহুল গ্রামে আজও পৌঁছেনি উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত ছোঁয়া। স্বাধীনতার ৫৬ বছর পেরিয়ে গেলেও ধলিয়া খালের ওপর একটি স্থায়ী সেতু ও সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার মানুষ প্রতিদিন দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলাচল করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা এলেই এসব এলাকার সঙ্গে পৌর শহরের যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ জরুরি প্রয়োজনে মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ধলিয়া খাল পার হতে হয়। এলাকাবাসির অভিযোগ গত ৮ জুলাই ২০২৬ স্কুলে যাওয়ার পথে দুই শিক্ষার্থী বন্যার পানিতে পড়ে গেলে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করেন। ঘটনাটি এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, দ্রুত স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহু বছর ধরে স্থানীয় সরকার প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, বলি টিলা ও হাসপাতাল পাড়া এলাকার কোনো ব্যক্তি মারা গেলে মরদেহ দাফনের জন্য মোহাম্মদপুর সামাজিক কবরস্থানে নিতে ধলিয়া খালের পানি পায়ে হেঁটে পার হতে হয়। আবার কোনো মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে কাঁচা রাস্তা ও সেতুর অভাবে বাঁশের তৈরি অস্থায়ী দোলনায় বহন করে খাল পার করতে হয়। স্থানীয়দের ভাষায়, “এ যেন আধুনিক বাংলাদেশে নয়, আদিম যুগের বাস্তবতা।”
মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শাহজালাল কাজল বলেন যে, এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি ধলিয়া খালের ওপর একটি আধুনিক ও টেকসই সেতু নির্মাণ এবং সংযোগ সড়কের উন্নয়ন। তাঁদের মতে, প্রকল্পটি মেগা প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করা হলে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং হাজারো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে। তিনি আরো বলেন বিএনপি সরকার গঠনের পরবর্তী সময়ে আমরা এ রাস্তাটি বাস্তবায়নের জন্য এলজিআরডি তে প্রকল্পের আবেদন জমা করেছি। জননেতা আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া (এমপি) বিষয়টি অবগত আছেন।
তিনি এ ব্রিজ ও রাস্তাটি মেগা প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নিবেন বলে আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। বর্তমান রাস্তাটি ঝুঁকি পূর্ণ লোকজন চলাচল করতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন বিষয় টি উপজেলা ও পৌর প্রশাসন কে অবগত করেছি, তাহারা এ বিষয়ে অবগত আছেন। বৃষ্টি চলাকালীন সময়ে রাস্তার কাজ করা অসম্ভব, তাই আমি আশাবাদী রাস্তাটি বৃষ্টির পরবর্তীতে অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে আপাতত রাস্তাটি সংস্কার করার কাজ শুরু হবে। প্রকৃতিক দুর্যোগ কালীন সময়ে সকলকে ধৈর্য ধরান করার আহ্বান জানান।