1. live@www.dainikparbottobangla.com : দৈনিক পার্বত্য বাংলা : দৈনিক পার্বত্য বাংলা
  2. info@www.dainikparbottobangla.com : দৈনিক পার্বত্য বাংলা :
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
“স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও মাটিরাঙ্গা পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র ০৮ টি জনবহুল গ্রামে পায়নি উন্নয়নের ছোয়া”। খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী বিজু ও বাংলা নববর্ষ -১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২০২৬ খ্রী উদযাপিত। বাহাদুর শাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে সরগরম পরিবেশ, শক্ত অবস্থানে শওকত হোসেন শকু মেম্বার। সংরক্ষিত নারী আসনে আস্থার সেতুবন্ধন খাগড়াছড়ি পাহাড় কণ্যা শাহেনা আক্তার। ফুসফুসে ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহার্য্যর আবেদন। খেদাছড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ২০২৬ পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা এবং দোয়া অনুষ্ঠান সম্পন্ন। সংরক্ষিত নারী আসনে খাগড়াছড়ি জেলা থেকে “বিএনপির” মনোনয়ন ফরম তুললেন শাহেনা আক্তার। বড় ব্যবধানে এমপি হলেন শেরপুর-৩ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী রুবেল। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে পার্বত্য খাগড়াছড়ির এলাকা থেকে বিএনপির শাহেনা আক্তার আলেচনায়। ২৯৮ নং সংসদীয় আসনে ধানের শীষের নি:কুশ বিজয়।

সংরক্ষিত নারী আসনে আস্থার সেতুবন্ধন খাগড়াছড়ি পাহাড় কণ্যা শাহেনা আক্তার।

সম্পাদকীয় কলামে
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

নিজেস্ব প্রতিনিধি: “সংবিধান ও আইনের গভীর বোধসম্পন্ন, তৃণমূলের মানুষের সাথে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত” বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংবিধানসম্মত এই ব্যবস্থাটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্বের কাঠামো নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।

এই প্রেক্ষাপটে দেশের প্রান্তিক ও সংবেদনশীল অঞ্চল পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের সামাজিক বাস্তবতা, জনতাত্ত্বিক বিন্যাস এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সমতলের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। এখানে নেতৃত্বের প্রশ্নটি কেবল প্রশাসনিক নয়, বরং এটি সামাজিক সম্প্রীতি, আস্থার সেতুবন্ধন এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
তাই সংরক্ষিত আসনে পাহাড় থেকে এমন একজন নারীকে মনোনয়ন দেওয়া জরুরি, যিনি এই বাস্তবতাকে নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে উপলব্ধি করেছেন এবং যার মধ্যে রয়েছে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখার সক্ষমতা।

সময়ের সাথে সাথে এই আসন গুলোর কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে কারা এই আসনে প্রতিনিধিত্ব করবেন, এবং কী ধরনের যোগ্যতা তাদের থাকা উচিত? শুধুমাত্র রাজনৈতিক আনুগত্য বা দলীয় বিবেচনার ভিত্তিতে মনোনয়ন দিলে এই কাঠামো তার প্রকৃত উদ্দেশ্য হারায়। বরং প্রয়োজন এমন নেতৃত্ব, যারা সংবিধান ও আইনের গভীর বোধসম্পন্ন, তৃণমূলের মানুষের সাথে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত এবং ভবিষ্যতে সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম।

এই প্রেক্ষাপটে দেশের প্রান্তিক ও সংবেদনশীল অঞ্চল পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের সামাজিক বাস্তবতা, জনতাত্ত্বিক বিন্যাস এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সমতলের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। এখানে নেতৃত্বের প্রশ্নটি কেবল প্রশাসনিক নয়, বরং এটি সামাজিক সম্প্রীতি, আস্থার সেতুবন্ধন এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই সংরক্ষিত আসনে পাহাড় থেকে এমন একজন নারীকে মনোনয়ন দেওয়া জরুরি, যিনি এই বাস্তবতাকে নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে উপলব্ধি করেছেন এবং যার মধ্যে রয়েছে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখার সক্ষমতা।

এই মানদণ্ডে খাগড়াছড়ির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা শাহেনা আক্তার একটি প্রাসঙ্গিক নাম হিসেবে সামনে আসে। তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় কিশোরী বয়সে, যখন তিনি খালেদা জিয়া-এর নেতৃত্বে খাগড়াছড়িমুখী ঐতিহাসিক লং মার্চ প্রত্যক্ষ করেন। সেই অভিজ্ঞতা তার মধ্যে যে রাজনৈতিক সচেতনতার জন্ম দেয়, তা পরবর্তীতে তাকে তৃণমূলভিত্তিক রাজনীতির সাথে গভীরভাবে যুক্ত করে। ছাত্রদল থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ের নেতৃত্ব প্রতিটি স্তরে তিনি সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সংগঠনকে সুসংহত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

*** সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রথম যে বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন, তা হলো সংবিধান ও আইন সম্পর্কে প্রার্থীর গভীর আগ্রহ ও জ্ঞান। জাতীয় সংসদ কেবল বক্তৃতার জায়গা নয়; এটি আইন প্রণয়ন এবং নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দু। এই জায়গায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে হলে আইনি কাঠামো সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অপরিহার্য। শাহেনা আক্তার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন, যা তাকে এই ক্ষেত্রে একটি দৃঢ় ভিত্তি প্রদান করেছে। মানবাধিকার বিষয়ে তার বিশেষায়িত জ্ঞান পার্বত্য অঞ্চলের জটিল সামাজিক বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

*** দ্বিতীয়ত, সংরক্ষিত আসন কখনোই স্থায়ী রাজনৈতিক আশ্রয়স্থল হওয়া উচিত নয়; বরং এটি হওয়া উচিত নেতৃত্ব বিকাশের একটি সোপান। শাহেনা আক্তারের তৃণমূলভিত্তিক রাজনীতি, সাধারণ মানুষের সাথে তার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ এবং সামাজিক কর্মকাণ্ড তাকে এই ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে। তিনি যেভাবে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করছেন, তা তাকে জনগণের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

*** তৃতীয়ত, নেতৃত্বের ক্ষেত্রে প্রজন্মগত ভারসাম্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্ব নতুন চিন্তা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং পরিবর্তনের শক্তি নিয়ে আসে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে তরুণদের অংশগ্রহণ একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও প্রাণবন্ত করেছে। এই বাস্তবতায় সংরক্ষিত আসনে এমন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত, যারা তরুণ প্রজন্মের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম এবং তাদের আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। শাহেনা আক্তার সেই অর্থে একটি সেতুবন্ধন, যিনি একদিকে অভিজ্ঞতার গভীরতা ধারণ করেন, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের সাথে তার সংযোগও দৃঢ়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দর্শনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা, যা বহুত্ববাদী সমাজে ঐক্যের ভিত্তি তৈরি করে। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রেক্ষাপটে এই দর্শনের প্রয়োগ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে নেতৃত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সংঘাত ব্যবস্থাপনার দক্ষতা। এই অঞ্চলের সামাজিক ও জাতিগত বৈচিত্র্য কখনো কখনো দ্বন্দ্বের জন্ম দেয়, যা সমাধানে প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক কৌশল।

শাহেনা আক্তারের রাজনৈতিক চর্চায় এই অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়, যেখানে তিনি বাঙালি ও পাহাড়ি উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে সমানভাবে কাজ করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রকল্পে ‘কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্ট’ বিষয়ে কাজ করার মাধ্যমে এই দক্ষতা অর্জন করেছেন। তার এই অভিজ্ঞতা জাতীয় সংসদে নীতিনির্ধারণী আলোচনায় একটি বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করতে পারে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে যে উন্নয়ন ও গণমুখী রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিকশিত হচ্ছে, সেখানে যোগ্য ও কর্মমুখী নেতৃত্বের মূল্যায়ন একটি ইতিবাচক ধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রেও গুণগত মানকে অগ্রাধিকার দেওয়া সময়ের দাবি। শাহেনা আক্তারের মতো একজন অভিজ্ঞ, শিক্ষিত এবং তৃণমূলসংলগ্ন নেত্রীর অন্তর্ভুক্তি এই প্রক্রিয়াকে আরও অর্থবহ করতে পারে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮ তম ব্যাচের ভূরাজনৈতিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন কৌশল বিশ্লেষক জনাব, মো. মাহমুদুল হাসানের মতে সংবিধান ও আইনের জ্ঞান, তৃণমূলের সাথে সংযোগ, ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাবনা এবং সামাজিক সম্প্রীতির প্রতি দায়বদ্ধতা “এই চারটি মানদণ্ডকে” সামনে রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে খাগড়াছড়ির শাহেনা আক্তার নিঃসন্দেহে সময়ের অন্যতম উপযুক্ত প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। তার মনোনয়ন কেবল একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হবে না, বরং এটি হবে একটি গুণগত পরিবর্তনের সূচনা। যেখানে সংরক্ষিত আসন সত্যিকার অর্থেই হয়ে উঠবে দক্ষ ও প্রতিশ্রুতিশীল নেতৃত্ব গঠনের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট