
ডেক্স রিপোর্ট: পার্বতীপুরে অবস্থিত দেশের অন্যতম বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের (“দিনাজপুরের”) সবকয়টি ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের অন্তত “আট জেলায়” বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে ঘনঘন লোডশেডিং এবং ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, গত বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১০.৩০ টার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কয়লার সঙ্গে পাথর মিশে যাওয়ায় ১ নম্বর ইউনিটের বয়লার পাইপ ফেটে যায়।এতে করে ইউনিটটি বন্ধ করতে হয়। যার দরুন ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ক্ষমতা সম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির ৩ নম্বর ইউনিটটি ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর থেকে এবং ২ নম্বর ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিটই এখন উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। তবে মেরামত এর কাজ চলছে, উৎপাদন স্বাভাবিক করতে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে। জানা যায়, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ১ নম্বর ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর ১৪ জানুয়ারি পুনরায় চালু হলেও কয়েক মাস পর আবারও তা বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে, বর্তমানে খনিতে দৈনিক গড়ে ২ হাজার ৭০০ টন কয়লা উত্তোলন করা হলেও ব্যবহার না থাকায় ইয়ার্ডে মজুত বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টনে, বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কর্তৃপক্ষ। খনির উৎপাদিত কয়লার একমাত্র ক্রেতা এই বিদ্যুৎকেন্দ্র হওয়ায় মজুত দ্রুত বেড়ে গেছে। যা ধারণক্ষমতার অনেক বেশি।
বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, কয়লা সংরক্ষণের জায়গা সংক্রান্ত বিষয়টি ইতমধ্যে সংকট দেখা দেওয়ায় বিকল্প স্থানে কয়লা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
২০০৬ সালে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ওপর ভিত্তি করে স্থাপিত এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও উত্তরাঞ্চলের চাহিদা পূরণে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি ও বিভিন্ন জটিলতার কারণে কখনোই পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহারের কারণে ঘন ঘন ত্রুটি দেখা দিচ্ছে।