মাটিরাঙ্গায় বিয়ের কথা বলে ডেকে যুবককে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ।
গাছের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন, এলাকাবাসীর হস্তক্ষেপে প্রাণে রক্ষা।
মো: মাসুদ রানা, (নিজস্ব প্রতিনিধি):ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় এক কিশোরীর সঙ্গে বিয়ের বিষয়ে কথা বলতে এসে মো. শ্যামল মন্ডল (৩২) নামে এক যুবক অপহরণ ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয় এলাকাবাসীর তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে তাকে উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগী মো. শ্যামল মন্ডল কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বিলগাতুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম ইন্দাদুল মন্ডল এবং মাতা সোহাগী বেগম।
এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যমতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতি ইউনিয়নের বান্দরছড়া এলাকার বাসিন্দা সুমন মিয়ার কন্যা সাহিদা আক্তার (১৬)-এর সঙ্গে শ্যামল মন্ডলের পরিচয় ও কথাবার্তা হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি সাহিদার বাবা সুমন মিয়া জানতে পারেন এবং মেয়েকে শ্যামলের সঙ্গে বিয়ে দিতে সম্মত আছেন বলে তাকে জানান।
অভিযোগ রয়েছে, সুমন মিয়ার আশ্বাসে ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ আগে শ্যামল বান্দরছড়ায় সুমন মিয়ার বাড়িতে যান এবং বিয়ের আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ নগদ ৫০ হাজার টাকা সুমন মিয়ার হাতে দেন। সুমন মিয়া ওই টাকা গ্রহণ করেন বলেও স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
পরে সুমন মিয়া তার মেয়েকে শ্যামলের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরার অনুমতি দেন। এ সময় সুমন মিয়ার ছেলে শাহাদাৎ হোসেন (১৭) তাদের সঙ্গে ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। শ্যামল কয়েক দিন সুমন মিয়ার বাড়িতে অবস্থান করার পর তাকে কুষ্টিয়ায় ফিরে যেতে বলা হয় এবং এক সপ্তাহ পর বিয়ে সম্পন্ন হবে বলে জানানো হয়েছিল—এমন দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
তবে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শ্যামল পুনরায় সুমন মিয়ার বাড়িতে গেলে পরিস্থিতি পাল্টে যায় বলে অভিযোগ। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করা হয় এবং তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে সাহিদা আক্তারকেও মানসিকভাবে নির্যাতন করে ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল বলে স্থানীয়দের দাবি।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরে শ্যামলকে হত্যার উদ্দেশ্যে সুমন মিয়া, শাহাদাৎ হোসেন, গোলাম রাব্বি, মো. জসিম উদ্দিন, সোহেল মিয়া ও শিরাজ মিয়াসহ ছয়জন একটি মোটরসাইকেলে করে বেলছড়ি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ‘মরা তাইফা’ কলাবাগান এলাকার নির্জন জঙ্গলের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
পথে কয়েকজন স্থানীয় মানুষের বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তারা আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। খবর পেয়ে শতাধিক মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তারা শ্যামলকে গাছের সঙ্গে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান এবং তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন।
স্থানীয়দের দাবি, সময়মতো তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারলে শ্যামলকে হত্যা করা হতে পারত। এলাকাবাসী আরও জানান, ওই নির্জন এলাকায় অতীতে একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়ভাবে জায়গাটিকে ‘মরা তাইফা’ নামে ডাকা হয়।
পরে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তদের আটক করে গোমতি পুলিশ ক্যাম্পে নিয়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে অভিযুক্তদের কোমরে রশি বেঁধে প্রায় শতাধিক মানুষ তাদের পুলিশ ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
গোমতি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে মাটিরাঙ্গা থানা যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ভুক্তভোগী শ্যামল মন্ডলসহ আটক ব্যক্তিদের দুটি সিএনজিযোগে মাটিরাঙ্গা থানায় হস্তান্তরের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে অভিযোগ ও ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় ঘটনার প্রকৃত তথ্য আরও স্পষ্ট হবে।