মো. মাসুদ রানা (নিজস্ব প্রতিনিধি): অভাবের সংসারে বাবার বোঝা কমবে এবং মেয়ের ভবিষ্যৎ ভালো হবে, এই আশায় দেড় বছর আগে ৯ বছর ৬ মাস বয়সী তানিয়া আক্তারকে গৃহকর্মীর কাজে ঢাকায় পাঠিয়েছিলেন দিনমজুর বাবা বেলাল হোসেন। বর্তমানে ১১ বছর বয়সী তানিয়া ক্ষ*ত, পোড়া ও পচন ধরা শরীর নিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরিবারের অভিযোগ, ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজ করার সময় তার ওপর নি*র্যা*তন করা হয়েছে।
গত শনিবার রাতে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বারান্দায় শুয়ে আছে তানিয়া। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষ*ত ও আঘাতের চি*হ্ন। মাথায় একাধিক সেলাই এবং পিঠের গভীর ক্ষ*তস্থানে পচন দেখা গেছে। দুই পায়ের অবস্থাও গু*রুতর। শিশুটিকে অত্যন্ত দুর্বল ও হাড্ডিসার দেখাচ্ছিল।
পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তানিয়ার বাড়ি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের করল্যাছড়ি গ্রামে। প্রায় পাঁচ বছর আগে তার মা মা*রা যান। এরপর দুই মেয়েকে নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েন বেলাল হোসেন। একপর্যায়ে স্থানীয় তোফাজ্জল হোসেনের মাধ্যমে তানিয়াকে গৃহকর্মীর কাজে ঢাকায় পাঠাতে রাজি হন তিনি।
তবে মেয়েকে ঢাকার কোথায় বা কার বাসায় রাখা হবে, তা বিস্তারিত জানতেন না বলে জানান বেলাল। তাঁর ভাষ্য, প্রথমে ফেনী শহরের ট্রাংক রোডের বড় মসজিদ সংলগ্ন একটি বাসায় তানিয়াকে কাজে দেওয়া হয়। পরে ওই বাসার এক নারী তাঁকে ঢাকায় তাঁর বোনের বাসায় পাঠান বলে পরিবার জানিয়েছে।
তানিয়ার অভিযোগ, ঢাকার মিরপুরের ওই বাসায় তাঁকে নিয়মিত খাবার দেওয়া হতো না, খু*ন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁ*কা দেওয়া হতো এবং দিনের বেশির ভাগ সময় টয়লেটে আটকে রাখা হতো। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রায় প্রতিদিন নি*র্যা*তন চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেছে সে। দেড় বছর ধরে তাঁকে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তানিয়ার।
তানিয়ার বাবা বেলাল হোসেনের ভাষ্য, কয়েক দিন আগে মাথা ও শরীরে গু*রু*তর আঘাত করার পর তানিয়াকে ঢাকা থেকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে গত শুক্রবার রাত ৩টার দিকে সেখান থেকে মেয়েকে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন তিনি। হাসপাতালে বেড না পাওয়ায় মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা চলছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “এখন আমার একটাই চাওয়া আমার মেয়েটা যেন বেঁচে থাকে এবং উন্নত চিকিৎসা পায়।”
খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রিপল বাঞ্ছি চাকমা বলেন, শিশুটির শরীরে দীর্ঘদিনের নি*র্যা*তনের চিহ্ন রয়েছে এবং তার অবস্থা অত্যন্ত আশ*ঙ্কা*জনক। তাঁকে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। হাসপাতালের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসার সহায়তায় এগিয়ে এলেন এমপি আব্দুল অদুদ ভূঁইয়া:
গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি ২৯৮ নম্বর সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল অদুদ ভূঁইয়ার নজরে আসে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পরে তিনি মাটিরাঙ্গা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
তৎ*ক্ষনাৎ জয়নাল আবেদীন সরকার ও সদস্যসচিব ফোরকান ইমামীসহ যু্বদলের নেতা কর্মীরা খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে গিয়ে তানিয়ার চিকিৎসার খোঁজ নেন। তাঁরা সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য পরিবারের হাতে নগদ সহায়তা তুলে দেন বলে সংশ্লি*ষ্টরা জানান।
এ সময় তাঁরা পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সহযোগিতার কথাও জানান।
এখনো মামলা হয়নি:
পরিবার ও সংশ্লি*ষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে পরিবার।