নিজস্ব প্রতিনিধি:খাগড়াছড়ি শহরের বিভিন্ন হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও মিষ্টির দোকানে অভিযান চালিয়ে একাধিক প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি আবাসিক হোটেলকে প্রয়োজনীয় রেজিস্টার ও লগবই সংরক্ষণ এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে খাগড়াছড়ি চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক মুজিবুর রহমান শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন। সংক্ষিপ্ত বিচার আদালতের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অভিযানকালে শহরের নোয়াখালী হোটেলকে পচা-বাসি খাবার সংরক্ষণ এবং অপরিষ্কার রান্নাঘরের দায়ে তাৎক্ষণিক ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে ১৫ দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সাতকানিয়া হোটেলকে খোলামেলা স্থানে খাবার রাখা, বাসি সিঙ্গারা প্যাকেটজাত করে মজুত করা এবং অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে ২০ দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া শহরের শাপলা চত্বরের শহীদ কাদের সড়কে অবস্থিত বনফুলের মিষ্টির দোকানে অভিযান চালিয়ে মেয়াদবিহীন মিষ্টি ও শিশুখাদ্য রাখার দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
শহরের পানবাজার এলাকার পুকুরের ওপর অবস্থিত ইনসাফ ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে নিরাপদ খাদ্য আইনের অধীনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযানের সময় খাগড়াছড়ি শহরের কয়েকটি আবাসিক হোটেলেও পরিদর্শন করা হয়। এসব হোটেল কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে রেজিস্টার ও লগবই সংরক্ষণ, অতিথিদের তথ্য সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করা এবং কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযান পরিচালনাকারী আদালত সংশ্লিষ্টরা জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা, খাদ্যের মান এবং মেয়াদ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আবাসিক হোটেলগুলোতেও আইন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে।