নিজস্ব প্রতিনিধি, ডুমুরিয়া (খুলনা):
উপকূলীয় জেলা খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় এবার অসময়ের (অফ-সিজন) তরমুজ চাষে সাফল্যের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল। প্রচলিত মৌসুমের বাইরে আধুনিক মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করে তিনি যেমন পেয়েছেন আশানুরূপ ফলন, তেমনি ভালো বাজারদরের প্রত্যাশায় দেখছেন মোটা অঙ্কের লাভের স্বপ্ন। তাঁর এ সাফল্যে এলাকার অন্য কৃষকরাও অসময়ের তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
ডুমুরিয়া উপজেলার সাহস ইউনিয়নের ছোটবন্দ গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মাচাজুড়ে ঝুলছে সবুজ রঙের পরিপক্ব তরমুজ। খেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত সফল কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল। ফলন ভালো হওয়ায় তাঁর চোখে-মুখে এখন আনন্দের ছাপ।
কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল জানান, শুরুতে অসময়ের তরমুজ চাষ নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। তবে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পরিচর্যা ও আধুনিক মাচা পদ্ধতি অনুসরণ করায় প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফলন পেয়েছেন।
তিনি বলেন, “প্রথমে অসময়ে তরমুজ চাষ নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু কৃষি অফিসের সঠিক পরামর্শ ও নিয়মিত পরিচর্যার কারণে খেতেই অসাধারণ ফলন পেয়েছি। অসময়ের তরমুজের বাজারে আলাদা চাহিদা থাকায় ভালো দামও পাওয়া যায়। খরচ তুলে এবার দ্বিগুণ লাভের আশা করছি। আমার এই সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও মাচা পদ্ধতিতে অফ-সিজন তরমুজ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।”
কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি ‘আস্থা’ জাতের তরমুজ ৪০ শতক জমিতে চাষ করেছেন। এতে তাঁর মোট উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪২ মণ তরমুজ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। প্রতি কেজি ৫০ টাকা হিসাবে এর সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য প্রায় ৮৪ হাজার টাকা। পরবর্তী পর্যায়ে আরও প্রায় ২৫ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে মোট সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার টাকা। সে হিসাবে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে তাঁর নিট সম্ভাব্য লাভ প্রায় ৮৯ হাজার টাকা।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ, নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন এবং আধুনিক মাচা পদ্ধতিতে চাষাবাদের কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “লবণাক্ততা ও প্রতিকূল আবহাওয়া থাকা সত্ত্বেও মৃত্যুঞ্জয় মন্ডলের মতো কৃষকদের পরিশ্রম ও কৃষি বিভাগের কারিগরি সহায়তায় ডুমুরিয়ায় অসময়ের তরমুজের চমৎকার ফলন সম্ভব হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে।”
খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, খুলনার উপকূলীয় এলাকায় অফ-সিজন তরমুজ চাষ কৃষকদের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। সাধারণ মৌসুমের তুলনায় অসময়ের তরমুজ চাষে ভালো বাজারদর পাওয়া যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রচলিত ফসলের তুলনায় লাভও বেশি হয়।
তিনি বলেন, “আমরা জেলার কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় এনে উচ্চমূল্যের ফসল চাষে উৎসাহিত করছি। এর মাধ্যমে কৃষকদের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব হবে।”
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপকূলীয় অঞ্চলের প্রতিকূল আবহাওয়া ও লবণাক্ততার মধ্যেও অসময়ের তরমুজ চাষে এমন সাফল্য কৃষকদের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। ডুমুরিয়ায় মৃত্যুঞ্জয় মন্ডলের বাম্পার ফলন দেখে আগামী দিনে আরও কৃষক আধুনিক মাচা পদ্ধতিতে অফ-সিজন তরমুজ চাষে এগিয়ে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।