ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন লঙ্ঘন: নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা
নিজেস্ব প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামা উপজেলায় ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন লঙ্ঘনের দায়ে পাঁচটি ইটভাটার বিরুদ্ধে পৃথক পাঁচটি মামলা দায়ের করে মোট ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শনিবার (১৫ আগস্ট) উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের রাইম্যাখোলা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈন উদ্দিন।
অভিযানে জরিমানার আওতায় আসা ইটভাটাগুলো হলো—ডিবিএম, এমএমবি, এমবিআই, এবিসি-৪ ও ইউএমবি। ভাটা পরিচালনায় আইন ও পরিবেশগত বিধিবিধান যথাযথভাবে প্রতিপালন না করায় সংশ্লিষ্ট পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে পৃথক পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রত্যেককে অর্থদণ্ড প্রদান করা হলে মোট ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এর ৫ ধারার বিধান লঙ্ঘনের দায়ে ১৫ ধারায় এসব অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। আইনের বিধান অনুযায়ী কৃষিজমি, পাহাড় বা টিলা থেকে মাটি কেটে বা সংগ্রহ করে ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া নির্দিষ্ট জলাশয় বা অন্যান্য স্থান থেকে মাটি সংগ্রহের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান রয়েছে। সংশোধিত আইনে এ ধরনের অপরাধের জন্য অর্থদণ্ডের পাশাপাশি কারাদণ্ডেরও বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া ইটভাটা স্থাপনের ক্ষেত্রেও আইনে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। আবাসিক, সংরক্ষিত বা বাণিজ্যিক এলাকা, উপজেলা সদর, বন, অভয়ারণ্য, বাগান, জলাভূমি, কৃষিজমি ও প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকাসহ নির্ধারিত বিভিন্ন স্থানে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ এলাকার সীমানা, সরকারি বনাঞ্চল, পাহাড়-টিলা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ বিশেষ স্থাপনার নির্ধারিত দূরত্বের মধ্যেও ইটভাটা স্থাপনের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে।
পার্বত্য জেলায় ইটভাটা স্থাপনের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট পরিবেশ উন্নয়ন কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত স্থান অনুসরণের বিধান রয়েছে।
আইনের ১৩ ধারায় ইটভাটার কার্যক্রম পরিদর্শনের ক্ষমতা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ নির্ধারিত পরিদর্শনকারী কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ১৯ ধারায় মোবাইল কোর্ট আইনের বিধান সাপেক্ষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধের তাৎক্ষণিক বিচার ও দণ্ড প্রদানের সুযোগ রয়েছে।
অভিযান প্রসঙ্গে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈন উদ্দিন বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং ইটভাটা পরিচালনায় প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের যথাযথ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্য করে কোনো ইটভাটা পরিচালিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনা নিয়ন্ত্রণে সরকার আইন প্রণয়ন করেছে। সংশ্লিষ্ট আইনের প্রস্তাবনাতেও পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়নের স্বার্থে ইট প্রস্তুত এবং ভাটা স্থাপনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
লামার পাহাড়ি জনপদে পরিবেশের ভারসাম্য, বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আইনসম্মতভাবে ইটভাটা পরিচালনা নিশ্চিত করা জরুরি। সংশ্লিষ্টদের মতে, উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগ অব্যাহত থাকলে পরিবেশবিধি লঙ্ঘনকারী ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।