নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন এবং দেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিতে দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দেশনেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে আয়োজিত দুস্থ, অসহায় ও অসুস্থ মানুষের মধ্যে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন দেখতে চায়। তারা দেখতে চায় প্রিয় মাতৃভূমি পৃথিবীর বুকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। সামনে এগিয়ে যেতে হলে এবং মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হলে দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে, শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে হবে।”
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের সংকট সমাধানে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে সরকারের চেয়ে ভালো পরিকল্পনা থাকলে তা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে। তবে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য অপপ্রচার চালানো হলে সংশ্লিষ্টদের জনগণের কাছেই ক্ষমা চাইতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করা কোনো রাজনীতিবিদের দায়িত্ব নয়। একজন রাজনীতিবিদের দায়িত্ব হলো জনগণকে ধৈর্য ধারণে উৎসাহিত করা এবং সঠিক পথ দেখানো।
দেশে বিশৃঙ্খলার রাজনীতির দিন শেষ হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিথ্যাচার ও বিশৃঙ্খলার রাজনীতি স্বৈরাচারী সরকার করে গেছে। বর্তমান রাজনীতিবিদরা জনগণের কাছে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাই হঠকারিতা ও বিভ্রান্তির রাজনীতি পরিহার করে জনকল্যাণে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভাঙচুর করার রাজনীতির দিন এখন নেই। জনগণও আর এ ধরনের রাজনীতি সমর্থন করে না।
ঢাকা-১৭ আসনের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে বিএনপির প্রতিনিধিরা জনগণের সেবায় কাজ করছেন। পাশের একটি লেক পরিষ্কার করতেই ছয় মাস সময় লেগেছে। এ ধরনের কাজ সহজ নয়, কিন্তু সমালোচনা করা সহজ। যারা শুধু সমালোচনায় ব্যস্ত, তাদের মাঠে নেমে মানুষ ও দেশের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, “সঠিক কথা বলুন এবং দেশে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়—এমন কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।”
বিএনপির নেতাকর্মীদের আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে টিকে ছিলেন। অথচ যারা আজ বড় গলায় কথা বলছেন ও মিথ্যাচার করছেন, গত ১৭ বছরে তাদের রাজপথে দেখা যায়নি। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন, গুম ও হত্যার ঘটনাগুলো উঠে এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
একটি রাজনৈতিক দলের অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা ১৯৭১, ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালে ভুল করেছে এবং ২০২৬ সালেও মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তিনি তাদের উসকানির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে জনকল্যাণের পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, জনগণের সামনে ভালো কোনো পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হলে সরকার তা বিবেচনা করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ এবং ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধি আবদুর রহমান সানী সভাপতিত্ব করেন। পরে দুস্থ, অসহায় ও অসুস্থ মানুষের মধ্যে সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়।