ডেক্স রিপোর্ট: প্রাণাধিক প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর শুভাগমন উপলক্ষে ‘ঈদে আজম’কে স্বাগত জানিয়ে বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব চট্টগ্রাম জেলা, হালিশহর থানা শাখার উদ্যোগে স্বাগত সালাতু সালাম সমাবেশ ও মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আল্লামা ইমাম হায়াতের দিকনির্দেশনায় আয়োজিত এ সমাবেশে হালিশহর থানা শাখার নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, সুন্নী শিশু কাফেলার সদস্য এবং দূর-দূরান্ত থেকে আগত প্রিয়নবীপ্রেমী মা-বোনেরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে নেতৃবৃন্দ শানে রেসালাত সংগীত পরিবেশন করেন। পাশাপাশি বক্তারা নবীপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধের আলোকে সমাজ ও রাষ্ট্রে সত্য, সুবিচার, মানবতা ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দয়াময় আল্লাহতায়ালার সর্বোচ্চ রহমত হিসেবে সমগ্র মানবমণ্ডলীর জন্য সত্যের আলো, মুক্তির উৎস এবং সকল কল্যাণের মূল হিসেবে প্রাণাধিক প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভাগমন আল্লাহতায়ালার প্রতি সর্বোচ্চ শোকরিয়ার বিষয়। তাঁদের ভাষায়, এ শুভাগমনই ‘ঈদে আজম’।
বক্তারা আল্লামা ইমাম হায়াতের দিকনির্দেশনা তুলে ধরে বলেন, আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে প্রাণাধিক প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে পাওয়া এবং তাঁর মাধ্যমে আল্লাহতায়ালাকে পাওয়াই ঈদে আজমের মূল তাৎপর্য। ঈদে আজম শুধু একটি দিনের আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি ঈমানি চেতনা, ভালোবাসা ও রেসালাতের সঙ্গে মানুষের আত্মিক সম্পর্কের প্রকাশ।
তারা আরও বলেন, ঈদে আজমকে কেন্দ্র করে মানুষের জীবনে সত্য, ন্যায়, স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় জাগ্রত হওয়া প্রয়োজন। অন্যায়, অবিচার, জুলুম, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই এ চেতনার অন্যতম লক্ষ্য।
সমাবেশে বক্তারা ‘ঈদে আজম’ শব্দটির ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন এবং এটি কেবল ঐতিহাসিক কোনো ঘটনা নয়, বরং ঈমানি চেতনা ও শানে রেসালাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি বিশ্বাসভিত্তিক ধারণা বলে উল্লেখ করেন। তারা ‘মিলাদ’ শব্দের পরিবর্তে ‘ঈদে আজম’ শব্দ ব্যবহারের পক্ষে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে দেশ, জাতি ও সমগ্র মানবতার শান্তি, কল্যাণ, ন্যায় ও মুক্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।