1. live@www.dainikparbottobangla.com : দৈনিক পার্বত্য বাংলা : দৈনিক পার্বত্য বাংলা
  2. info@www.dainikparbottobangla.com : দৈনিক পার্বত্য বাংলা :
বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
২৯৮ নং সংসদীয় আসনে ধানের শীষের নি:কুশ বিজয়। বেলকুচিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঐতিহাসিক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত। জি কে গউছের সমর্থনে লাখাইয়ের বুল্লা বাজারে ধানের শীষের বিশাল মিছিল। কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে বিদেশি অস্ত্রসহ গ্রেফতার ০১ জন। ঠাকুরগাঁয়ে “তারেক রহমান” শুধু জনপ্রতিনিধি নয়, এই নির্বাচন দেশ পুনর্গঠনের। নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে পাঁচবিবিতে ভোটের গাড়ী। গুইমারা সেক্টর এর পক্ষে যামিনী পাড়া (২৩ বিজিবি) কর্তৃক প্রেস ব্রিফিং সম্পন্ন। গভীর জঙ্গলে সভ্যতা থেকে দূরে থাকা এক আদিবাসী গোষ্ঠী প্রথম দেখল পৃথিবী। রাঙ্গামাটিতে ট্রাক–সিএনজি দুর্ঘটনায় নারী যাত্রী নিহত। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে (৪০ বিজিবি) প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত।

না ফেরার পথ পাড়ি দিলেন তিন তিন বারের সাবেক প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৩ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় অত্যন্ত জটিল এবং সংকটময় মুহূর্ত পার করছিলেন বলে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন।

কে এই বেগম খালেদা জিয়া: বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার ও মা তৈয়বা মজুমদার। শৈশবে তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পরবর্তীতে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৬০ সালে তিনি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

রাজনৈতিক জীবন: জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন তিনি ফার্স্ট লেডি হিসেবে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। এবং ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদতবরণের পর দলের সংকটময় মুহূর্তে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। এরপর ১৯৮৩ সালে তিনি দলের ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালে চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

আপসহীন নেতৃত্বের ভূমিকায় খালেদক জিয়া: ৮০ দশকে তৎকালীন সামরিক স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন তিনি। আপসহীন সংগ্রামের কারণে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। এই দীর্ঘ আন্দোলনে তিনি সাত দলীয় জোট গঠন করেন এবং স্বৈরাচারের পতন না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার দৃঢ় ঘোষণা দেন। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে তাকে ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সাতবার আটক ও গৃহবন্দী করা হয়েছিল।

১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তার সময়েই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি শিক্ষা খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন তিনি যার মধ্যে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, মেয়েদের জন্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং উপবৃত্তি কর্মসূচি চালু করেন। এ ছাড়া তিনি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ২৭ থেকে ৩০ বছরে উন্নীত করেন।

২০০৫ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন তাকে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় ২৯ নম্বরে স্থান দেয়। এবং বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে কোনো আসনেই পরাজিত না হওয়ার অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। তিনি ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে যে কয়টি আসনে দাঁড়িয়েছেন, তার সবকটিতেই জয়লাভ করেছেন। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি স্টেট সিনেট গণতন্ত্রের প্রতি তার অবদানের জন্য তাঁকে ‘গণতন্ত্রের যোদ্ধা’ উপাধিতে ভূষিত করে।

কারাজীবন: ২০১৮ সাল থেকে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘ সময় কারাবরণ করেন এবং পরবর্তীতে সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে মুক্ত হয়ে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ ও হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন।

২০১৮ সালে একটি বিতর্কিত মামলার রায়ে তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যদিও আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই বিচারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পরে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে একে একে সব মামলায় খালাস পান বিএনপি চেয়ারপারসন।

অসুস্থ ও চিকিৎসা: মেডিকেল বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেওয়ার সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক ও ‘আনফিট’ থাকায় তাঁকে দেশের বাইরে পাঠানো সম্ভব হয়নি। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ডের তত্ত্বাবধানেই তাঁর শেষ চিকিৎসা চলছিল। ৮০ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ সময় ধরে নানাবিধ বার্ধক্যজনিত ও শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনি সমস্যাসহ নানা জটিলতায় আক্রান্ত ছিলেন।

তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ সরকার ০৩ দিনের রাস্ট্রীয় শোক ঘোষনাসহ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ বুধবার নির্বাহী ছুটি জারী করেন। বাংলাদেশের জনগন একজন দক্ষ অভিভাবক হারালেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট